মাওবাদীমুক্ত ঘোষণার পরেও পাহাড়ের নীচে অস্ত্রভাণ্ডার! ছত্তিশগড়ে উদ্ধার ৭১১টি গ্রেনেডের খোল
দেশকে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র যে এখনও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকতে পারে, তার প্রমাণ মিলল ছত্তিশগড়ে। বিজাপুরের কারেগুট্টা পাহাড়ে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হল ৭১১টি গ্রেনেড লঞ্চারের শেল। নিরাপত্তাবাহিনীর দাবি, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মাওবাদীরাই সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।ছত্তিশগড় ও তেলঙ্গানার সীমান্তে অবস্থিত কারেগুট্টা পাহাড় একসময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সম্প্রতি ওই পাহাড়ে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং তাদের বিশেষ শাখা কোবরা। সেই অভিযানেই তারাপাল্লা গ্রামের কাছে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান মেলে।নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে খবর, মাটি খুঁড়ে মোট ৭১১টি গ্রেনেড লঞ্চারের শেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাহিনীর সন্দেহ, নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়াতেই মাওবাদীরা ওই বিস্ফোরকগুলি মাটির নীচে লুকিয়ে রেখেছিল। উদ্ধার হওয়া শেলগুলি তারাপাল্লা শিবির থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কারেগুট্টা পাহাড়ের কাছে পাওয়া গিয়েছে।উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকায় গ্রামবাসীদের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিস্ফোরকগুলি নিরাপদে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, একসময় এই জঙ্গলই ছিল মাওবাদীদের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়াতে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঘাঁটি তৈরি করতেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় তাঁদের খুঁজে বের করতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হত নিরাপত্তারক্ষীদের।তবে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে নিরাপত্তাবাহিনী। গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে কারেগুট্টা পাহাড়ের জঙ্গলে টানা ২১ দিন অভিযান চালানো হয়। এলাকার সমস্ত যাতায়াতের পথ বন্ধ করে চলে এই অভিযান। তাতে ৩১ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।এর পর ওই এলাকাকে মাওবাদীমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় নিরাপত্তাবাহিনী। গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রথম সেখানে নিরাপত্তাবাহিনীর শিবির তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।গত ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে মাওবাদীমুক্ত বলে ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই ঘোষণার পরেও কারেগুট্টা পাহাড়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মাওবাদীদের ফেলে যাওয়া আরও অস্ত্র কি এখনও জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় মাটির নীচে লুকিয়ে রয়েছে? সেই খোঁজেই এখন তল্লাশি চালাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

